For Common People » Bangla


English
নাক ডাকা (SNORING)

Professor FM Mohiuddin Khan

 

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা সচরাচরই ঘটে। নাক ডাকেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা নেহায়েত কম না। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, যিনি নাক ডাকেন তিনি তা টের পান না, সাথে যারা থাকেন,ঘুমান,তারাই ব্যাপারটা বুঝেন-বুঝান এবং বিড়ম্বনায় থাকেন।আবার এই নাক ডাকা নিয়ে সাহিত্য জগতে গল্প, ছড়ারও অভাব নেই। আপাত দৃষ্টিতে খুব স্বাভাবিক মনে হলেও কোন কোন সময় এটা মারাত্মক আকার ধারন করে ক্ষতিসাধন ও করে – যিনি নাক ডাকেন তার- আর যারা তার আশে পাশে থাকেন তাদেরও।অনেক সময় নাক ডাকার কারনে কেউ তার সাথে ঘুমাতে চান না- এমনকি স্বামী-স্ত্রী ও না।স্বামী – স্ত্রী আলাদা বিছানায় ঘুমায় এমনকি মাঝে মধ্যে তা  বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায় (Snoring Spouse Syndrome)।

 

 

তাই ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা বিষয়ে বিস্তারিত জানা থাকা দরকার

অটোল্যারিঙ্গোলজিস্ট ও নাক ডাকা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল, পি, স্লটার বলেন

সারা পৃথিবীর প্রায় ৪৫% সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ কখনো না কখনো ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন। আপনি ও হয়তোবা তাদেরই একজন। এটি আমাদের অনিচ্ছাতেই ঘটে থাকে।

 

                       

 

 

                         নাক ডাকা কি?

নাক ডাকা হলো শ্বাসনালীর উপরিভাগের (অর্থাৎ মুখ, মুখগহবর, নরম তালু, আলজিহ্‌বা) কম্পনজনিত শব্দ, যা ঘুমের সময় শ্বাসনালীর আংশিক বাধাজনিত কারণে নিঃশ্বাস আদান-প্রদানের সময় উৎপন্ন হয়। কেউ একটু অল্প শব্দ করেন, কেউবা বেশি।তবে এটা ঠিক যে কেউ ইচ্ছে করে নাক ডাকে না।

সহজ কথায় ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিপথে কোনো বাধা পেলে বাতাস শ্বাসযন্ত্রে কম্পনের সৃষ্টি করে। এরই ফলে নাক ডাকার শব্দ হয়।সাধারনত আমরা যখন শ্বাস নেই তখনি এই শব্দ হয়, তবে শ্বাস ছাড়ার সময় ও শব্দ হতে পারে।

 

শুধু ঘুমের সময়ই কেন নাক ডাকে জেগে থাকলে কেন ডাকে না?

ঘুমের সময় আমাদের মাংস পেশীর টান কমে যায় অর্থাৎ মাংস পেশী শিথিল হয়ে যায় ফলে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাতাস চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে কম্পনজনিত কারনে শব্দ উৎপন্ন হয়। কিন্তু যখন আমরা জেগে থাকি তখন

মাংস পেশীর টান ঠিক থাকে ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাতাস কোনো বাধার সম্মুখীন হয়না যার কারনে কেউ জেগে থাকলে নাক ডাকেনা।

 

                  কেন এটি একটিরোগ?

অনেক মানুষ ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা কে কোনো সমস্যা মনে করে না। নাক ডাকার ফলে মানুষের ঘুমের সমস্যা হয়, আশেপাশের মানুষের ঘুমের সমস্যা হয় এটা সবাই জানে কিন্তু এর ফলে যে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে তা অনেকেরই জানা নেই।

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হৃদরোগের মতই ঝুঁকিপূর্ণ। যারা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন তারা ধূমপায়ী কিংবা মোটা লোকদের চেয়েও বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ডেট্রয়েটের একদল গবেষক এমন তথ্য জানিয়েছেন।

গবেষকদের মতে, যারা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে তাদের মস্তিষ্কে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহকারী ধমনী (ঘাড়ের দুই পাশে অবস্থিত) পুরু অথবা অস্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শরীরের অন্য ধমনীগুলো শক্ত হয়ে যাওয়ার সঙ্গেও এর একটা সম্পর্ক আছে যার ফলে হ্যার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা ব্রেন হেমারেজ হতে পারে।

এজন্য উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকা রোগীরা যেমন চিকিৎসকের সহায়তা নেন, তেমনি ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার সমস্যা যাদের রয়েছে তাদেরও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

এছাড়া অল্প বয়স থেকেই ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার সমস্যা প্রাণনাশী স্বাস্থ্য সমস্যার পূর্বাভাস বলে হুঁশিয়ার করেছেন গবেষকরা।

 

              ডাক্তারী বিদ্যায় এর নাম- 

                        Snoring 

               কারা বেশি ভোগেনঃ

সাধারনত স্থুলকায় পুরুষ এবং নারী উভয়ে এ সমস্যায় ভোগেন, তবে পুরুষরা নারীদের তুলনায় নাক ডাকা সমস্যায় বেশি ভোগেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে শতকরা ৪৪% পুরুষ এবং ২৮% নারী নাক ডাকা সমস্যায় ভোগেন।

 

              যেসব কারণে আমরা নাক ডাকি-


১| জন্মগত কারণে- জন্মগতভাবে কারো কারো গলার ভেতরের অংশ অন্যদের চেয়ে কিছুটা সরু থাকতে পারে বা চোয়ালে কোনো সমস্যা থাকতে পারে যা নাক ডাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। এছাড়াও জিহ্বার কোন সমস্যা যেমন ম্যাক্রোগ্লোসিয়া বা বড় জিহবা এবং অন্যান্য শারীরিক জন্মগত সমস্যার কারণে কেউ নাক ডাকতে পারে।  

২| বয়স- বয়স বাড়ার সাথে সাথে (চর্বি জমার কারনে) আমাদের গলা সরু হতে শুরু করে। মাঝ বয়সে পৌঁছবার পর থেকেই অনেকের মধ্যে নাক ডাকার উপসর্গ দেখা দেয়।

৩| পুরুষ হবার কারণে- পুরুষদের মধ্যে নাক ডাকার প্রবণতা বেশি দেখা যায় নারীদের তুলনায়।কারণটা হচ্ছে পুরুষদের গলার প্রস্থ মেয়েদের তুলনায় কম থাকে যার কারণে নাক ডাকার প্রবণতা পুরুষদের মধ্যে বেশি।

৪। ওজনাধিক্যঃ ওজন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে গলার চারপাশের চর্বি জমা হয় ফলে গলগহ্বর এবং শ্বাসনালী সরু হয়ে যায়

৫। অ্যালকোহল, ধুমপান ও মেডিকেশন: অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধুমপানের কারণে নাক ডাকা বেড়ে যায়। অনেক সময় কিছু কিছু ঔষধের (যেমন ঘুমের ঔষধ) কারণে মাংসপেশি শিথিল হয়ে নাক ডাকার প্রবণতা বাড়ে।

৬। নাক ও সাইনাসের সমস্যাঃ এলার্জি, অ্যাজমা,ঠান্ডা লাগা, সাইনাসের সমস্যা- অথবা অন্যান্য কারণে নাক বন্ধ থাকার অভিজ্ঞতার সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। যখন নাক বন্ধ থাকে তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের যে সমস্যা হয় সেটার ব্যাপারেও নতুন করে বলার কিছু নেই। তাই ঠান্ডা লাগলে অথবা উপরোক্ত কারণে কাউকে কাউকে নাক ডাকতে দেখা যেতে পারে ঘুমের মধ্যে। এছাড়া নাকের হাঁড় বাঁকা, পলিপ ইত্যাদি কারনেও কারো কারো নাক বন্ধ থাকতে পারে এবং ঘুমের সময় নাক ডাকতে পারে।

৭। থাইরয়েড ও গ্রোথ হরমোনের সমস্যাজনিত কারনেও অনেকেই নাক ডাকতে পারে

৮। এছাড়াও টনসিল ও এডিনয়েড এর আকার অনেক বড় থাকলেও অনেক সময় এই সমস্যা হতে পারে।

৯। ঘুমের পজিশনের কারনে - অনেক সময় চিৎ হয়ে ঘুমালে জিব পেছনে চলে গিয়ে শ্বাসনালী বন্ধ করে দিলে এই সমস্যা হতে পারে।

১০। ঘুমের সময় গলগহ্বর-এর পেশির দুর্বলতা বা টোন কমে গেলে

 

                রোগের উপসর্গঃ

১। ঘুমানোর সময় অনেক জোরে জ়োরে নাক ডাকা এবং বার বার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া।

২। দিনের বেলায় মাত্রাতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব।

৩। অসময়ে ঘুমিয়ে পড়া- যেমন খাওয়ার সময় বা কথা-বার্তা বলতে বলতে ঝিমিয়ে যাওয়া।

৪। ঘুমের মধ্যে হাঁপানো, শ্বাসকষ্ট হওয়া বা দম আটকে যাওয়া।

৫। মুখের ভেতরটা শুকিয়ে আসা।

৬। মাথা ব্যথা – সাধারনত ঘুম থেকে উঠার পর মাথা ব্যথা হয়।

। স্মৃতি বিভ্রম ও অমনোযোগিতা।

 

 

 

 

              জটিলতাঃ

১। ব্যক্তি ও কর্ম জীবনে বিরূপ প্রভাব- উচ্চশব্দে নাক ডাকার কারনে অন্যের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তাই যারা ডরমিটরি অথবা মেস্ এ রুম শেয়ার করে ঘুমান তাদের মধ্যে এই নিয়ে মনোমালিন্য ও ঝগড়া হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাবের কারনে কর্মক্ষেত্রে এই নিয়ে হাসা-হাসি হতে পারে।

২। সংসার জীবনে বিরূপ প্রভাব- উচ্চশব্দে নাক ডাকার কারনে অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী আলাদা ঘুমায়। এমনকি অনেকের বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত হতে পারে।

৩। মাত্রাতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাবের কারনে ভারী যন্ত্র-পাতি পরিচালনা করা অথবা গাড়ি চালানো ঝুকিপুর্ণ হতে পারে।

৪। রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দিতে পারে।

৫। ঘাড়ের রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়া (ক্যারোটিড অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস)।

৬। উচ্চরক্ত চাপ ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা।

৭। মস্তিষ্কের রক্ত-ক্ষরন এবং হার্ট এ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৮।নিদ্রাকালীন শ্বাসরুদ্ধতা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া।

 

 

 

 

 

 

রোগ নিরূপনঃ

নাক ডাকা রোগীরা নিজেরা যেহেতু নাক ডাকা টের পান না তাই তাদের সান্নিধ্যে যারা থাকেন তারাই সর্বপ্রথম এটা বুঝতে পারেন এবং ডাক্তারের শরনাপন্ন হন।

নাক ডাকা যেই সব কারনে হয়ে থাকে তা নির্নয় করা জরুরী।

সর্বপ্রথমে, কারো কোন জন্মগত মুখ, মুখ-গহ্বর, তালু, জিহবা, আল-জিহবা অথবা মাড়ীর সমস্যা আছে কিনা তা ভালমত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে।

এছাড়া নাকের কোনো সমস্যা যেমন- নাকের হাঁড় বাঁকা কিনা, নাকে পলিপ আছে কিনা, নাকের ভিতরে কোনো মাংস বৃদ্ধি বা কোনো টিউমারের কারনে নাক বন্ধ কিনা তা একজন নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে তাঁর পরামর্শ নিতে হবে।

এ্যালার্জি ও নাকের সাইনাসের কোন সমস্যা (সাইনাসের প্রদাহ্, সাইনাসের টিউমার) আছে কিনা তা দেখতে হবে।এইজন্য প্রয়োজনে নাকের এক্সরে অথবা কোন কোন সময় সিটি স্ক্যান করানো লাগতে পারে।

এছাড়া নাক ডাকা ব্যক্তিটি যদি অতিরিক্ত স্হূলকায় হয় তাহলে তার এই অতিরিক্ত ওজনের কারন কি কোন হরমোনজনিত সমস্যা কিনা (বিশেষ করে থাইরয়েড এবং গ্রোথ হরমোন)তা রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে।

এছারা অতিরিক্ত স্হূলকায় ব্যক্তির ঘাড়ের পরিধি (Neck circumference) পরিমাপ করে দেখতে হবে। সর্বোপরি একজন নাক,কান,গলা রোগ বিষেশজ্ঞ দিয়ে মুখ, মুখ-গহবর এবং শ্বাস-নালী ভালো মতো পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোথাও কোন প্রতিবন্ধকতা (Obstruction) আছে কিনা।

নাক,কান,গলা রোগ বিষেশজ্ঞ যদি মনে করেন আপনার ঘুমের মধ্যে বাঁধাজনিত শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা আছে যাকে আমরা ডাক্তারী ভাষায় obstructive sleep apnea বলি, তাহলে আপনার ঘুমের বিস্তারিত পরীক্ষা(Sleep Study) করতে হবে. ডাক্তারী ভাষায় যেই পরীক্ষার নাম হল-----

১। Polysomnography- polygraphic sleep study

এছাড়া কেউ যদি বলে যে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকতে ডাকতে ঘুম ভেঙ্গে যায় তাহলে তাদের জন্য কিছু বিশেষ পরীক্ষা করতে হবে যেমন-

ক।The Maintenance of Wakefulness Test

খ। Multiple Sleep Latency Test (MSLT)

 

 

সাধারন করনীয়ঃ

নাক ডাকা বন্ধে জ়ীবনযাত্রায় পরিবর্তন-

ওজন কমানোঃ শরীরের ওজন কমানো অনেক সময় নাক ডাকা বন্ধ করতে সাহায্য করে। যাদের ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার অভ্যাস রয়েছে অল্প থেকে মাঝামাঝি পর্যায়ের এবং যদি তাদের শারীরিক ওজন স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়ে থাকে তবে আমরা সর্বপ্রথম এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলি। শারীরিক ওজন বাড়ার সাথে সাথে আমাদের গলার পেছনের দিকের অংশে অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে শুরু করে এবং এতে গলার ভেতরের প্রস্থ কমে যায়। যা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার কারণ হিসেবে কাজ করে। ওজন কমানো সম্ভব হলে এসব অতিরিক্ত চর্বি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে এবং সেই সাথে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকাও বন্ধ হবে।

ব্যায়ামঃ
ব্যায়াম শরীরকে কর্মচঞ্চল রাখে,মাংশ-পেশীগুলোকে টান করে।নিয়মিত ব্যায়াম করলে ওজন কমার পাশাপাশি গলার মাংশ-পেশীগুলোরও টোনিং হয়। ফলে নাক ডাকার প্রবণতা অনেকের ক্ষেত্রে কমে যায়।

অ্যালকোহল ও ঘুমের অষুধ ত্যাগ করাঃ

মদ্যপান, কতিপয় ঔষধপত্র এবং কিছু কিছু খাবার এড়িয়ে চলা গেলে নাক ডাকা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে। এলকোহল এবং কিছু কিছু ঔষধ আমাদের গলার এবং জিহ্‌বার মাংসপেশীগুলোকে শিথিল করে দেয় যার কারণে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একই ভাবে ঘুমের বড়ি অথবা ট্র্যাঙ্কুলাইজার গোত্রের ঔষধগুলো ঘুমের জন্য সহায়ক হলেও এগুলো ব্যবহারের কারণেও নাক ডাকার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। তাই যতটা সম্ভব এসব এড়িয়ে চলাই ভাল।


ধূমপান ছেড়ে দেওয়াঃ

ধূমপানের কারণে সৃষ্ট নানান প্রকারের জটিলতার সাথে আমাদের মোটামুটি পরিচিতি আছে। প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মাংসপেশীগুলো ঢিলে হয়ে পড়ে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যার সৃষ্টি করে। যা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার কারণ হিসেবেও কাজ করে। তাই ধূমপান ত্যাগ করা হতে পারে নাক ডাকা থেকে রেহাই পাবার একটি বড় উদ্যোগ।

কাত হয়ে ঘুমানোঃ

পাশ ফিরে কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করার চেষ্টা করা উচিত।চিত হয়ে না ঘুমিয়ে পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। জরিপে দেখা গেছে যে যাদের চিত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস আছে তাদের মধ্যে নাক ডাকার প্রবণতা অনেক বেশী কারন চিত হয়ে ঘুমালে গলার পেশী শিথিল থাকে। তাই আমরা বলে থাকি পুরোপুরি নাক ডাকার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে হলে পাশ ফিরে কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।

বেশি বালিশ নেওয়াঃ

মাথার নীচে কয়েকটি বালিশ দিয়েও নাক ডাকা কমানো যেতে পারে। মাথার নীচে বালিশ দিলে বুকের চেয়ে মাথা বেশি উঁচুতে থাকে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাতাস বাধাপ্রাপ্ত হয়না ফলে নাক ডাকার আশঙ্কা কিছুটা কমে যায়।

নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমঃ

প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিত।
প্রতিদিন নিয়মিত একই সময়ে ঘুমানোর অভ্যাসে নাক ডাকার প্রবণতা কিছুটা কমে আসে। 

 

প্রচুর পানি পান করাঃ

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এতে করে নাসারন্ধ্রে লেগে থাকা আঠার মতো দ্রব্যগুলো দূর হবে। নাক ডাকাও কমবে।

নাসারন্ধ্রের পথ পরিষ্কার রাখাঃ

নাক বন্ধ থাকলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয় এবং গলায় একটি বায়ুশূন্য স্থানের সৃষ্টি হয়। এই বায়ুশূন্য স্থানের কারণে নাক ডাকার সমস্যা তৈরী হয়। তাই ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে নাক বন্ধ থাকলে নাকের ড্রপ দিয়ে হলেও নাক পরিস্কার করে ঘুমানো উচিত।

ভারী খাবার ও ক্যাফেইন না খাওয়াঃ
ঘুমানোর অন্তত দুই ঘন্টা আগে খাওয়া-দাওয়া সেরে নেয়া উচিত। ঘুমানোর পূর্বে চা-কফি বা কোন ভারী খাবার না খাওয়া।এছাড়া উচ্চ চর্বিযুক্ত দুধের তৈরি খাবার অথবা সয়া দুধে তৈরি খাবার গলার ভেতরে মিউকাস তৈরি করতে সাহায্য করে থাকে যার কারণে এসব খাদ্যদ্রব্যও নাক ডাকার পেছনে ভূমিকা রাকতেই পারে তাই এইসব খাবার পরিহার করা জরুরী।

উপরোক্ত প্রতিকার গুলো চেষ্টা করার পরেও কারো কারো ক্ষেত্রে নাক ডাকার সমস্যা সমাধান নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক।

                         

 

                       চিকিৎসাঃ

১। সি,পি,এ,পি বা কনটিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসারঃ একনাগাড়ে শ্বাস-তন্ত্রে বায়ুর চাপ বাড়িয়ে রাখার যান্ত্রিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাটি বেশ কার্যকর। এতে ঘুমের সময় একটি মাস্ক (মুখোশ) পরিয়ে দেয়া হয় এবং উচ্চ চাপের বাতাস প্রবাহিত করে শ্বাস-নালীকে খোলা রাখা হয়।ভিন্ন ভিন্ন রুগীর জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুখোশ এবং ভিন্ন ভিন্ন  বায়ুর চাপ প্রয়োজন হয়।

২। মৌখিক ডিভাইস (Oral Device):  যেমন নিম্ন চোয়াল স্থিতিকরনের (Lower jaw positioner) ডিভাইস যা ক্রীড়াবিদ দের মুখের গার্ডের অনুরুপ। এই ডিভাইস ঘুমের সময় নিচের চোয়াল কে খুলে রাখে এবং জিহ্‌বা কে সামনের দিকে টেনে রাখে ফলে ঘুমের সময় শ্বাস-নালী পর্যাপ্ত পরিমানে খোলা থাকে।

এছাড়াকিছু কিছু ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারেঃ-

১। নাকের অপারেশনঃ যদি কারো নাকের হাঁড় খুব বেশী বাঁকা থাকে যাকে আমরা ডাক্তারী ভাষায় Gross DNS বলি, অথবা নাকে যদি পলিপ বা মাংস বৃদ্ধি বা টিউমারের কারনে নাক বন্ধ থাকে তাহলে শল্যচিকিৎসা বা অপারেশন এর দরকার হবে। যেমন—হাঁড় বাঁকার জন্য- সেপ্টোপ্লাস্টি (Septoplasty), পলিপের জন্য---পলিপেক্টমি (Polypectomy) ইত্যাদি।

২। মুখ ও মুখ-গহ্ববরের অপারেশনঃ কেউ যদি ইভিউলা (Uvula) যা শ্বাস-নালীর উপরিভাগের নরম তালুর কাছে একটি মাংস পিন্ড অথবা তালুর (Palate) কোন সমস্যার কারনে নাক ডাকেন তাহলে তাদের নিম্নলিখিত অপারেশন করা যেতে পারে—

ক। ইউভুলেকটমি—অপারেশন করে ইভিউলা কেটে ফেলা।

খ। এল,এ,ইউ,পি, (লেজার এসিস্টেড ইউভুলোপ্লাস্টি)—লেজারের সাহায্যে ইভিউলা ছোট করে ফেলা।

গ। ইউ,পি,পি,পি, অর্থাৎ ইউভুলোপ্যালাটো ফ্যারিঙ্গোপ্লাষ্টি ( Uvulo-palato-pharyngo plasty) অপারেশনের মাধ্যমে মুখ-গহ্ববর ও নরম তালুর মধ্যকার শ্বাস-নালী প্রশস্ত করা হয়,যার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতিবন্ধকতা দূর হয়।

ঘ। রেডিওফ্রিকোয়েন্সি এব্লেশন অফ প্যালেট (Radio-frequency ablation of the palate)

ঙ। প্যালাটাল ইমপ্লান্টস (Palatal Implants)-

এছাড়া কারো কারো টনসিল এবং এডিনয়েড এর অপারেসন করার পর নাক ডাকা কমে যায়।

সাইনোসাইটিস

অধ্যাপক খোরশেদ আলম মজুমদার

ডাক্তার সাহেব আমারতো ‘সাইনাস’ আছে,- নাক-কান-গলা রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে অহরহ রোগীদের কাছ থেকে এমন কথা শোনেন নি এমন ডাক্তার বোধ হয় একজনও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। আসলে সাইনাস বলতে রোগীরা সাধারণ ভাবে সাইনাসের প্রদাহ বা সাইনোসাইটিসের উপসর্গ বুঝিয়ে থাকেন যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘সাইনাস’ হল মাথার খুলিতে অবস্থিত বায়ুভর্তি কুঠুরি। সাইনাসগুলোর নাম হল ম্যাক্সিলারি, ফ্রন্টাল, ইথময়েডাল ও স্ফেনয়ডাল। বলে রাখা ভালো সাইনাসগুলোর নামকরণ হয়েছে মাথা ও মুখমন্ডলের যে হাড়ের ভেতর অবস্থিত তার নাম অনুসারে। মাথার খুলিতে অবস্থিত এসব সাইনাসের বিভিন্ন কাজ রয়েছে। এরা মাথাকে হাল্কা রাখে, খুলির ভেতরের নরম অঙ্গকে রক্ষা করে, সর্বোপরি নাকের ভেতর দিয়ে ক্রমাগত চলাচলকারী বাতাসকে উষ্ণ ও আর্দ্র রাখে। চার ধরনের সাইনাসের মধ্যে যে সাইনাসটি সবচেয়ে বেশি প্রদাহের স্বীকার হয় সেটি হল ম্যাক্সিলারি সাইনাস। এটি সংখ্যায় দুই এবং নাকের দুই পাশে এর অবস্থান। মজার ব্যাপার হল অন্যান্য সাইনাসের শ্লেষ্মার স্বাভাবিক ড্রেইনেজ এই ম্যাক্সিলারি সাইনাসের মধ্য দিয়েই হয়ে থাকে। তাই খুব সঙ্গত কারণেই সাইনোসাইটিসের চিকিৎসায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

সাইনাসের অভ্যন্তরীণ আবরণ হিসেবে এক ধরণের ঝিল্লি থাকে। সাইনোসাইটিস বলতে এই ঝিল্লির প্রদাহকেই বুঝায়।

সাইনোসাইটিস এর তীব্রতা ও স্থায়িত্বকালের উপর ভিত্তি করে সাইনোসাইটিস দু ধরণের।

এক- একিউট সাইনোসাইটিসঃ

    এক্ষেত্রে রোগ লক্ষণ খুব তীব্র হয়ে থাকে। সাধারনত ৪ সপ্তাহের মাঝেই এটি সেরে যায়।

দুই- ক্রনিক সাইনোসাইটিসঃ

    এটি কম তীব্র কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী। এক্ষেত্রে উপসর্গ ১২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অবস্থান করে।

অনেক কারনেই সাইনোসাইটিস হয়ে থাকে। কিছু কারন প্রত্যক্ষ ভাবে, কিছু আবার পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে।

যেমনঃ

১. নাকের প্রদাহঃ

বেশির ভাগ সাইনোসাইতিস প্রথমত ভাইরাস এর সংক্রামনে হলেও পরে কিছু ব্যাকটেরিয়া এর উপসর্গকে তীব্রতর ও প্রলম্বিত করে। যেসব ব্যাকটেরিয়া সাইনোসাইটিস করে থাকে তারা হল-

    স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি
    হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি
    মোরাক্সেলা ক্যাটারালিস
    স্ট্রেপটোকক্কাস পায়োজেনস
    স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস
                 এবং
    ক্ল্যাবসিয়েলা নিউমোনি

    এছাড়া কিছু অ্যানেরোবিক জীবানুও সাইনোসাইটিসের জন্য দায়ী।

২. সাঁতারঃ

    দূষিত পানি কিংবা উচ্চমাত্রায় ক্লোরিনযুক্ত পানি গোসলের সময় সাইনাসের প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুকে ইনফেকশন করতে পারে।

৩. আঘাতঃ

যে কোন আঘাতের জন্যে সাইনাসের ছিদ্র পথ উন্মুক্ত হলে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৪. দাঁতের ইনফেকশনঃ

    মাড়ির একদম শেষ প্রান্তে অবস্থিত মোলার অথবা প্রি-মোলার দাঁত তোলার সময় দাঁতের গোঁড়া দিয়ে সাইনাস উন্মুক্ত হয়ে ইনফেকশন হতে পারে। এক্ষেত্রে ম্যাক্সিলারি সাইনাস সবচেয়ে বেশি প্রদাহের স্বীকার হয়।

৫. পরোক্ষভাবে সাইনোসাইটিসে ভূমিকা রাখে এমন কারণগুলো হল-

  • নাকের প্যাক (ANS PACK)
  • নাকের বাকা হাড় (Deviated Nasal Septum)
  • নাকের মাংস ফুলে যাওয়া (Hypertrophied Turbinates)
  • নাকের পলিপ (Nasal Polyps)
  • এডিনয়েডের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (শিশুদের ক্ষেত্রে)
  • নাকের টিউমার

এছাড়া নাকের ও সাইনাসের শ্লেষ্মার স্বাভাবিক নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত করে এমন অসুখও পরোক্ষভাবে এর প্রদাহ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তেমনি একটি অসুখের নাম সিসটিক ফাইব্রোসিস (Cystic Fibrosis.)

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, অপুষ্টি, এইডস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্টকারী যে কোন অসুখ সাইনোসাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

সাইনোসাইটিস একিউট কি ক্রনিক তা বোঝা যায় উপসর্গের তীব্রতার উপর। দু ক্ষেত্রেই মোটামুটি উপসর্গ প্রায় একই।

মাথাব্যথা হল এই রোগের প্রধান উপসর্গ। এই ব্যথা চোখের নিচে ও কপালে থাকে। মুখমন্ডলের যে স্থানে যে সাইনাস অবস্থিত সেখানেও ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে চোখের পাতা ফুলে উঠতে পারে। নাক পরীক্ষা করলে এ অবস্থায় নাকের ভেতরের নির্দিষ্ট স্থান যেমন Middle meatus – এ পুঁজ জমে থাকতে দেখা যাবে। একই সাথে নাকের ভিতরের মাংস ফোলা থাকতে পারে,  নাকের হাড় বাকা থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আলজিভের পিছনে নাসাগলবিল অঞ্চলে ঘন পুঁজ বেয়ে পড়তে দেখা যায় যাকে বলা হয় Post Nasal Drip.

অনন্যা শারীরিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, শরীর ব্যথা, অবসন্নতা।

রোগ নির্ণয়ঃ

    এর জন্যে সাইনাসের খুব সাধারণ একটি এক্স রে-ই যথেষ্ট। এক্স রে প্যারানাসাল সাইনাস অক্সিপিটোমেন্টাল ভিউ/ওয়াটারাস ভিউ এতে আক্রান্ত সাইনাস ঘোলা হবে। কখনও কখনও ঝিল্লির আবরণ স্বাভাবিকের তুলনায় পুরু হয়।

    সামর্থ্যবান রোগীদের বেলায় সিটিস্ক্যানও  করা যেতে পারে। তবে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে সরাসরি সিটি স্ক্যান করা ভালো।

সাইনাসের ক্যান্সার সম্বন্ধে অনেক স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

চিকিৎসাঃ

ক. মেডিক্যাল চিকিৎসাঃ

    সাইনোসাইটিসের চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হল সাইনাসের ভেতর অস্বাভাবিক ভাবে জমে থাকা শ্লেষ্মার বহির্গমনের রুদ্ধ পথ খুলে দেওয়া এবং এর ভেতরকার বাতাস ও স্বাভাবিক নিঃসরণের পথ অবারিত রাখা। প্রদাহজনিত ব্যথার উপশম চিকিৎসার অন্যতম লক্ষ্য।

ব্যবহৃত ঔষধঃ

১. এন্টিবায়োটিকঃ

    ট্যাব সেফুরোক্সিম ২৫০/৫০০ মিলি গ্রাম

             ১+০+১ -১০/১৪ দিন

    ট্যাব সিপ্রোফ্লুক্সাসিন ৫০০ মিলি গ্রাম

             ১+০+১ -১০/১৪ দিন

    ট্যাব কো-মোক্সাক্লেভ ৩২৫/৬২৫ মিলি গ্রাম

             ১+১+১ – ১০/১৪ দিন

২. ন্যাসাল ডিকনজেসট্যান্টঃ

অক্সিমেটাজোলিন ০.০৫%
জাইলোমেটাজোলিন ০.১%
৪ ফোঁটা নাকের প্রতি ছিদ্রে x ৩ বার – ১০ দিন

৩. এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ

৪. ব্যথার জন্যে ব্যথানাশক যেমনঃ
       প্যারাসিটামল

৫. ম্যানথল দিয়ে গরম পানির ভাপ নেওয়া – ১৪ দিন

৬. আক্রান্ত সাইনাসে গরম স্যাক দেয়া।

 

খ. সার্জিক্যাল চিকিৎসাঃ

    একিউট বা ক্রনিক দু’ধরনের সাইনোসাইটিসেই প্রথমে ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। যদি বার বার হয় তাহলে সার্জারির শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। আগে সার্জারির অনেক বিকল্প পদ্ধতি থাকলেও এখন সব ধরণের সাইনোসাইটিস চিকিৎসায় বড় বড় হাসপাতালগুলোতে যে অপারেশন করা হয়ে থাকে তার নাম ফাংশনাল এন্ডোসকপিক সাইনাস সার্জারি (FESS)। এর ঝুঁকি যেমন কম তেমনি অভিজ্ঞ সার্জনের হাতে এর ফল খুব কার্যকর।

    সাইনোসাইটিস খুব সাধারণ একটি রোগ। কিন্তু সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়ের মত কেউ যদি দিনের পর দিন এই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় অবহেলা করেন তখন আর সেটি সাধারণ রোগের পর্যায়ে থাকে না; ডেকে আনে সমূহ বিপদ ও জটিলতা।

অটোলারিনগোলজিস্ট কি?

সমস্ত একটি বিশিষ্টতা বিশেষভাবে শেষ চতুর্থাংশ সময় গত শতাব্দীর শেষার্ধ সময় খুব দ্রুত অগ্রগতির হয়েছে বিশ্বের Otolaryngology ওভার. অনুরূপ বাংলাদেশের সঙ্গে কেস. কিন্তু উন্নয়ন মতই ঢেউ বরং পরে বিশ্বের অন্যান্য অংশে আর বাংলাদেশ পৌঁছেছে. সেখানে 1971 সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ফলে প্রথাগত ইএনটি কাজ এবং এখন যদি ক্ষেত্রের উদ্ভেদ তরুণ ও উজ্জ্বল ছেলেরা খুব ভাল নম্বর সঙ্গে এইসা প্রসারিত এই বিশিষ্টতা মধ্যে বেশিরভাগই জড়িত শুধুমাত্র একটি কয়েক ইএনটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে. বাংলাদেশে এখন হেড ঘাড় সার্জারী এবং মাইক্রো-কান সার্জারী সমগ্র অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি চিঠি ক্লিনিক নিয়মিতভাবে কাজ করা হচ্ছে.

অটোলারিনগোলজিস্ট সম্বন্ধে জানতে হবে?

সমস্ত একটি বিশিষ্টতা বিশেষভাবে শেষ চতুর্থাংশ সময় গত শতাব্দীর শেষার্ধ সময় খুব দ্রুত অগ্রগতির হয়েছে বিশ্বের Otolaryngology ওভার.

অনুরূপ বাংলাদেশের সঙ্গে কেস. কিন্তু উন্নয়ন মতই ঢেউ বরং পরে বিশ্বের অন্যান্য অংশে আর বাংলাদেশ পৌঁছেছে. সেখানে 1971 সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ফলে প্রথাগত ইএনটি কাজ

এবং এখন যদি ক্ষেত্রের উদ্ভেদ তরুণ ও উজ্জ্বল ছেলেরা খুব ভাল নম্বর সঙ্গে এইসা প্রসারিত এই বিশিষ্টতা মধ্যে বেশিরভাগই জড়িত শুধুমাত্র একটি কয়েক ইএনটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে. বাংলাদেশে এখন হেড ঘাড় সার্জারী এবং মাইক্রো-কান সার্জারী সমগ্র অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি চিঠি ক্লিনিক নিয়মিতভাবে কাজ করা হচ্ছে.

অটোলারিনগোলজিস্ট - ১?

সমস্ত একটি বিশিষ্টতা বিশেষভাবে শেষ চতুর্থাংশ সময় গত শতাব্দীর শেষার্ধ সময় খুব দ্রুত অগ্রগতির হয়েছে বিশ্বের Otolaryngology ওভার. অনুরূপ বাংলাদেশের সঙ্গে কেস. কিন্তু উন্নয়ন মতই ঢেউ বরং পরে বিশ্বের অন্যান্য অংশে আর বাংলাদেশ পৌঁছেছে. সেখানে 1971 সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ফলে প্রথাগত ইএনটি কাজএবং এখন যদি ক্ষেত্রের উদ্ভেদ তরুণ ও উজ্জ্বল ছেলেরা খুব ভাল নম্বর সঙ্গে এইসা প্রসারিত এই বিশিষ্টতা মধ্যে বেশিরভাগই জড়িত শুধুমাত্র একটি কয়েক ইএনটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে. বাংলাদেশে এখন হেড ঘাড় সার্জারী এবং মাইক্রো-কান সার্জারী সমগ্র অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি চিঠি ক্লিনিক নিয়মিতভাবে কাজ করা হচ্ছে.

অটোলারিনগোলজিস্ট - ২?

সমস্ত একটি বিশিষ্টতা বিশেষভাবে শেষ চতুর্থাংশ সময় গত শতাব্দীর শেষার্ধ সময় খুব দ্রুত অগ্রগতির হয়েছে বিশ্বের Otolaryngology ওভার. অনুরূপ বাংলাদেশের সঙ্গে কেস. কিন্তু উন্নয়ন মতই ঢেউ বরং পরে বিশ্বের অন্যান্য অংশে আর বাংলাদেশ পৌঁছেছে. সেখানে 1971 সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ফলে প্রথাগত ইএনটি কাজএবং এখন যদি ক্ষেত্রের উদ্ভেদ তরুণ ও উজ্জ্বল ছেলেরা খুব ভাল নম্বর সঙ্গে এইসা প্রসারিত এই বিশিষ্টতা মধ্যে বেশিরভাগই জড়িত শুধুমাত্র একটি কয়েক ইএনটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে. বাংলাদেশে এখন হেড ঘাড় সার্জারী এবং মাইক্রো-কান সার্জারী সমগ্র অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি চিঠি ক্লিনিক নিয়মিতভাবে কাজ করা হচ্ছে.

অটোলারিনগোলজিস্ট - ৩?

সমস্ত একটি বিশিষ্টতা বিশেষভাবে শেষ চতুর্থাংশ সময় গত শতাব্দীর শেষার্ধ সময় খুব দ্রুত অগ্রগতির হয়েছে বিশ্বের Otolaryngology ওভার. অনুরূপ বাংলাদেশের সঙ্গে কেস. কিন্তু উন্নয়ন মতই ঢেউ বরং পরে বিশ্বের অন্যান্য অংশে আর বাংলাদেশ পৌঁছেছে. সেখানে 1971 সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ফলে প্রথাগত ইএনটি কাজএবং এখন যদি ক্ষেত্রের উদ্ভেদ তরুণ ও উজ্জ্বল ছেলেরা খুব ভাল নম্বর সঙ্গে এইসা প্রসারিত এই বিশিষ্টতা মধ্যে বেশিরভাগই জড়িত শুধুমাত্র একটি কয়েক ইএনটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে. বাংলাদেশে এখন হেড ঘাড় সার্জারী এবং মাইক্রো-কান সার্জারী সমগ্র অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি চিঠি ক্লিনিক নিয়মিতভাবে কাজ করা হচ্ছে.